1. rakib.bd19@gmail.com : Rakib Hasan : Rakib Hasan
  2. asim.vai5305@gmail.com : As : As Ilm
  3. geogatedproject364@gmail.com : Aymee : Aymee Hana
  4. hasanchy52@gmail.com : hasanchy :
  5. mahmuda0913@gmail.com : Mahmuda Akter Rozy : Mahmuda Akter Rozy
  6. Manikbau@gmail.com : Fayjul Islam Manik : Fayjul Islam Manik
  7. ghuddirpilot@gmail.com : Rafat Nur : Rafat Nur
September 24, 2021, 12:14 am

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের ইতিহাস

  • পোষ্টের সময় : Sunday, June 6, 2021
  • 329 বার পঠিত
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড বা অমৃতসর হত্যাকাণ্ড ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অন্যতম কুখ্যাত গণহত্যা। ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল তারিখে অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসর শহরে ইংরেজ সেনানায়ক ব্রিগেডিয়ার রেগিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।এই শহরের জালিয়ানওয়ালাবাগ নামক একটি বদ্ধ উদ্যানে সমবেত নিরস্ত্র জনগণের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল।

🟪 কেন এই আন্দলন হয়েছিলো সেটা জানতে হবেঃ
ইংরেজ সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, প্রথমবিশ্ব যুদ্ধে অংশ নিলে পরাধীন দেশগুলোকে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হবে। এই কথায় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রদূত মহাত্মা গান্ধী সহ অনেকেই যুদ্ধে যোগ দেন এবং যুদ্ধে ভারতবাসীকে উৎসাহিত করেন স্বায়ত্তশাসন পাবার আশায়। ১৯১৯ সালে যুদ্ধ শেষ হয়। কিন্তু ইংরেজ সরকারের নীতিতে কোন রকম পরিবর্তন দেখা যায়নি। যেসব সৈন্য যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল এসময় তাকে বেকার করে নিজ নিজ গ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অর্থনৈতিক মন্দা এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারিতে এক কোটির বেশি মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। ভারতবাসীর মনে সন্দেহ ঘনীভূত হতে থাকে। এই সন্দেহ থেকেই ক্ষোভ এবং ইংরেজ বিরোধী মনোভাবের সূচনা ঘটে। এসময় ইংরেজ সরকার একদিকে যেমন মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কার আইন করে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করে একই সাথে আবার রাওলাট আইন করে ইংরেজ সরকার বিরোধী সকল বিক্ষোভ কঠোর হাতে দমনের জন্য নির্যাতনমূলক আইন জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়। এই আইনের অধীনে বিনা কারণে গ্রেপ্তার, অন্তরীন ও সংক্ষিপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণহীন বিচার ও বন্দীত্বের বেপরোয়া পদক্ষেপ গৃহীত হয়। এর পরও বিক্ষোভ কমেনি। ধর্মঘটে এবং বিক্ষোভের লক্ষ্য হয়ে দাড়ায় সরকারী দপ্তর এবং যানবাহন। সাদা চামড়ার ইউরোপীয় কর্মকর্তা এবং অধিবাসীদের উপরও ভারতীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তাদের উপরও আক্রমণ করা হয়। এপ্রিলের ১৩ তারিখ দুজন রাজনৈতিক নেতাকে অমৃতসর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর পটভূমিতেই বলতে হয় হত্যাকাণ্ডের আবহ তৈরি হয়েছিল।

🟪 হত্যাকাণ্ডের দিন যা ঘটেছিলোঃ
জালিয়ানওয়ালাবাগ হচ্ছে অমৃতসরের একটা পার্ক বা উদ্যান। ঢাকায় যেমন রেসকোর্স ছিলো। এখানে স্থানীয় স্বাধীনতাকামী মানুষেরা একটা জনসভার আয়োজন করেন। তাদের শান্তজনসভাস্থলে হাজির হয়, ব্রিগেডিয়ার রেগিনাল্ড ডায়ার। সভাস্থলে ২০ হাজার মানুষ ছিলো, কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়া ডায়ারের নির্দেশে শান্ত জনসভায় গুলি করা হয়। আকস্মিক এই আক্রমনে প্রায় সহস্র মানুষ লুটিয়ে পরে। সহস্রাধীক মানুষ আহত হয়। একটা শান্ত জনসভায় এমন বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ফেটেপরে সমগ্র ভারতবর্ষ। তারা ডায়ারের বিচার চায়।

🟪 মর্মান্তিকতার প্রমানঃ
রতন দেবী নামে এক মহিলার স্বামী সেদিন ঐ গণহত্যার শিকার হয়েছিলো। কিন্তু তিনি তার স্বামীর মৃতদেহ নিয়ে যেতে পারেননি। কারণ ব্রিটিশ ঘটনার পরপরই শহরে কারফিউ জারি করেছিলো।
রতন দেবীর স্মৃতিচারণ ছিল এরকম, “পুরো মাঠ জুড়ে শুধু রক্ত আর রক্ত। আমি আমার মৃত স্বামীর পাশে বসে ছিলাম। কুকুরের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলাম। সারারাত একা এভাবে বসেছিলাম। কানে আসছিলো কুকুরের ঘেউ ঘেউ, মাঝে মধ্যে গাধার চিৎকার এবং অসংখ্য আহত মানুষের কাতরানি।”

🟪 কি হয়েছিলো ডায়ারের শাস্তিঃ
নাইজেল কলেট লিখেছিলেন, “ঘটনার পুরো চিত্র যখন পরিষ্কার হলো, ভারতে প্রচণ্ড ক্ষোভ তৈরি হলো। ডায়ারের বিচার দাবি শুরু হলো। কিন্তু ইংল্যান্ডে এই সেনা কর্মকর্তা জোরালো সমর্থন পাচ্ছিলেন। ইংল্যান্ডের মানুষজন এটা দেখছিলো এভাবে যে ডায়ার তার দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেক বলছিলেন ডায়ার পরিস্থিতির শিকার।”
ডায়ারের সমর্থনে ইংল্যান্ডে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়েছিলো। ২৬ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করা হয়েছিলো। ব্রিটেনে ফিরে আসার পর তাকে দামি পাথর খচিত তরবারি উপহার দেয়া হয়েছিলো যাতে খোদাই করা ছিল – Saviour of Punjab অর্থাৎ পাঞ্জাবের রক্ষাকর্তা।
আর এভাবেই একটা গনহত্যার কোনো বিচার হলোনা। অসহায় শান্তি ও স্বাধীনতাকামী মানুষ আইনের নিকট প্রতারিত ও বঞ্চিত হলো।

🟪 ঘটনার প্রতিক্রিয়াঃ
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার নাইট উপাধী ত্যাগ করেন যা ব্রিটিশরা তাকে দিয়েছিলো। জালিয়ানওয়ালাবাগ এর ঘটনার দুই দিন পরে, ১৫ ই এপ্রিল, গুজরানওয়ালায় বিক্ষোভ সংঘটিত হয় অমৃতসরের হত্যা কান্ডের প্রতিবাদে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও বিমান ব্যবহার করা হয়, এর ফলে ১২ জন মারা যায় এবং ২৭ জন আহত হয়।

🟪 পরিশিষ্ঠঃ
আমরা এমন এক জাতী যারা বৈদেশিক কল্পগাথা মনে রাখতে পারলেও, নিজ ভুমির সুর্যসন্তানদের বীরত্ব ও ত্যাগকে মনে রাখিনা। ঠিক যেমন বৈদেশিক পন্যকে নিজ দেশের প্রাকৃতিক পন্যের তুলনায় উচুতে স্থান দেই। তাই পাঠকদের নিকট তুলে ধরলাম এই ইতিহাস যাতে তারা ভুলে না যায় কিভাবে ব্রিটিশ হানাদারদের নিকট থেকে আমরা মুক্তির লড়াইগুলো হয়েছিলো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্টটি শেয়ার করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো পোষ্ট দেখুন...
© All rights reserved © 2021 Shial Mama
Theme Customized By BreakingNews